Monday, 14 May 2018

ধর্ম আজ অসহায়।

লিখেছেনঃ আসিফ মহিউদ্দিন 
দাসদার মাথায় ছিলো না যে তিনি কোনদিন মারা যাবেন। গতকাল তিনি শেষ পর্যন্ত চলেই গেলেন।
গতবছর একদিন চারটে বেগুন ভাজি, লাউয়ের সাথে ক্যাটফিসের তরকারী আর লাল শাক দিতে গিয়েছিলাম। ঘরে ঢুকতেই বললেন – “নৃপেন, খাবার এনেছো? দাও।” সাথে সাথেই খেতে শুরু করলেন। অত্যন্ত তৃপ্তি নিয়ে খেয়ে বললেন – “রাজভোগ খেলাম।”
মিনু লাল শাক করেছিলো। গতকাল দুপুরে লালশাক দেখেই দাসদার “রাজভোগ” খাওয়ার কথা মনে পড়লো। এবং রাত ৯ঃ০৯টায় ছোট ছেলে হিমমৌলির টেক্সট মেসেজ – “I just wanted to pass along some sad news. My father passed away today.”
দাসদা আমাকে যা বলে গেছেন, তাতে তিনি ৯৫ বছরের কিছু আগেই চলে গেলেন। তিনি ছিলেন চির নতুন। মৃত্যু নিয়ে তিনি কখনও ভাবেন নি। আমার বাড়ীর সামনে খালি জায়গাটা কিনে নতুন একটা বাড়ি বানাতে চেয়েছিলেন। জায়গার মালিকের সাথে কথা বলতে বলেছিলেন। আমি বলিনি। কারণ, আমি জানতাম তাঁর মাথায় এই বোধটুকু নেই যে নতুন বাড়ীতে উঠার মত সময় তাঁর হাতে থাকবে না। কতগুলো প্রজেক্ট নিয়ে ভেবেছিলেন। শরীরটা ঠিক হলেই শুরু করার প্ল্যান ছিলো। বয়সের সাথে একসময় শরীরটা শেষ হয়ে আসে। শরীর জোড় কমেছিলো। কিন্তু মনের জোড় কমেনে কোনদিন।
আমি তাঁকে অনেক সময় মজা করে Young Man বলতাম। তিনি মজা পেতেন। এ নিয়ে অনেক হাসাহাসি হতো।
আমি ঘন্টার পর ঘন্টা উনার সাথে আলাপ করেছি। একটা বিষয়ে আমাদের পুরোটাই মিল ছিলো। সেটা হলো – মানুষের ধর্ম বিশ্বাস। তিনি প্রচুর পড়াশুনা করতেন। এমনও আছে যে, রাত তিনটেতেও আমাকে ইমেইল করে সকাল সাতটায় ফোন করেছেন।
অত্যন্ত বাস্তববাদী লোক ছিলেন। মানুষকে সঠিক পরামর্শ দিতে পারতেন। সময় হয়েছে। তিনি চলে গেলেন। একজন অতি কাছের মানুষ হারালাম। কিন্তু স্মৃতিকে তো হারাতে পারবো না।

Monday, 30 April 2018

বিউটি হত্যাকান্ড একটি ট্যাগবিহীন অনার কিলিং

লিখেছেন : সাহেদুল সাহেদ 
ছায়েদ আলী পেশায় দিনমজুর শ্রেণীর হলেও তার একটা সমাজ আছে। সেই সমাজ হয়তো সম শ্রেণীর মানুষদের নিয়েই। তাদের আর্থিক দৈন্যতা যতই করুণ হোকনা কেন, দুবেলা পেঠের ভাত জোগাড় করতে  যতই গলদ্ঘর্ম হতে হয়না কেন তাদেরকেও কিছু সামাজিক আইন সংস্কার বিধি বিধান মেনে চলতে হয়। কেউ সেই নিয়ম ভঙ্গ করলে সালিশ বৈঠকে তার শাস্থির বিধান করা হয়। অন্যান্যের মতো ছায়েদ আলীদের সমাজেও নারীর চরিত্র তথা সতীত্ব একটি স্পর্শকাতর বিষয়। একজন দরীদ্র মানুষ একজন সম্পদশালীর যতই কিল-গুঁতা খাকনা কেন তাতে তাদের জাতিভ্রষ্ট হওয়ার কোনো কারণ নেই।এমনকি কেউ যদি পেঠের কারণে চুরি-চামারিও করে তাও মেনে নেয়া যায় কিন্তু পরিবারের একটি মেয়ে ইচ্ছায় বা অনিচ্ছায় যদি পুরুষ-দংশিতা হয়ে যায় তবে আর রক্ষে নেই। উল্কার গতিতে চারদিকের বাতাস গরম হয়ে পড়ে। জাত গেল জাত গেল বলে চারদিকে শোর উঠে যায়। চরিত্রভ্রষ্ট সেই মেয়েটিকে কঠিন শাস্থি না দেয়া পর্যন্ত মানুষের ঘুম হারাম হয়ে যায়। ছায়েদ আলীর মেয়ে বিউটিকে বাবুল নামের দুর্বৃত্তটি অপহরণ পূর্বক ধর্ষণ করে ফলে সে সমাজে কুলটা হয়ে পড়ে। তাকে ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে এক ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বারের ছেলে তুলে নিয়ে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে তার সাথে অনৈতিক কাজ করেছে তাতে বাবুলের চরিত্রহানীর কোনো কারণ ঘটেনি। সে এজন্য লজ্জিত বা অনুতপ্ত হবে তারও কোনো কারণ নেই বরং সে বুক ফুলিয়ে হাঁটবে। মেয়েদের দেখলে  শিষ দেবে। অশ্লীল মন্তব্য করবে কারণ এসব করার মতো একটি কান্ড সে অতি কৃতিত্বের সাথে ঘটিয়ে ফেলেছে। তার এই অপকর্মের জন্য তার আত্নীয় স্বজনকে মুখ লুকাতে হবেনা। এজন্য তার ভাই বোনের বিয়েও আটকে থাকবেনা কিন্তু বিউটি ধর্ষিতা হওয়ায় তার নির্মম নিষ্টুর ফল ভোগ করবে তার বাবা ছায়েদ আলী। সে তার অন্যান্য মেয়েকে বিয়ে দিতে পারবেনা। সমাজ তাকে একঘরে করবে। একেতো দরীদ্র মানুষ এর উপর যদি সমাজ তাকে বিচ্ছিন্ন করে দেয় সে তার পরিবারের অন্য সদস্যদের নিয়ে বাঁচবে কী করে? দিনমজুর মানুষ তাকে যদি কাজ না দেয়া হয় পেঠে পাথর বেঁধেতো সে বাঁচতে পারবেনা। এর চেয়েতো বরং সেই আপদটিকে বিদায় করে দেয়াই ভাল। এদিকে প্রতিহিংসাপরায়ন আরেক খলচরিত্র ময়নামিয়া ছায়েদ আলীকে ক্রমাগত প্ররোচিত করেছে মেয়েকে হত্যার জন্য। মেয়েতো এমনিতেই মরে গেছে। যাকে ধরে নিয়ে গিয়ে দিনের পর দিন ধর্ষণ করা হয়েছে তারতো এমনিতেই মৃত্যু হয়ে গেছে। তার বেঁচে থাকা তার নিজের জন্য যেমন অভিশাপ তেমনি গোটা পরিবারের জন্যও। বরং পরিকল্পনামাফিক তাকে হত্যা করলে সে সামাজিক চাপ থেকে মুক্তিলাভ করবে সেসাথে যে লম্পট তার মেয়ের সর্বনাশ করেছে তাকে ফাঁসিয়ে হত্যা মামলার আসামী করা যাবে। দরীদ্রের মেয়েকে একজন ইউপি মেম্বারের ছেলে ধর্ষণ করেছে এটা আইনের চোখে তেমন বড় কোনো অপরাধ নয় সুতরাং এ কারণে তার শাস্থিও হবেনা কিন্তু যদি খুনের মামলায় জড়ানো যায় তবে তাকে শাস্থি পেতেই হবে।এইসব প্ররোচনা এক সময় ছায়েদ আলীর কাছে যৌক্তিক মনে হয়। যৌক্তিক মনে না হওয়ার কোনো কারণও নেই। কারণ ময়নামিয়ার প্রতিটি কথাই যুক্তিপূর্ণ। তারপর প্রথম দফা চারিত্রিক এবং সামাজিক মৃত্যুর পর যথারিতি একদিন বিউটির শারিরীক মৃত্যুও সম্পন্ন হয়।
দৃশ্যপটটি কল্পনা করুন। একজন স্নেহময় পিতা যিনি তার জীবনের শেষ সামর্থ দিয়েও তার কন্যাটির মুখে হাসি ফুটাতে চেয়েছেন। একেবারে শৈশবকাল থেকেই কন্যাটি যখন যার বায়না ধরেছে সীমিত সামর্থের মাঝেও তিনি চেষ্টা করেছেন মেয়ের আব্দার রক্ষা করতে। অথচ  সেই স্নেহের কন্যাটিকেই তিনি বাড়ি যাবার নাম করে তার নানীর বাড়ি থেকে নিয়ে এসে ঘাতকের হাতে তুলে দিচ্ছেন। নির্জন হাওরের খোলা প্রান্তরের সবুজ ঘাসে ফেলে তাকে ঘাতকরা হত্যা করছে আর সেই পিতা পাশে দাঁড়িয়ে সেই হত্যার দৃশ্য দেখছেন। সেই মেয়েটির কথা ভাবুন। একাধিক ঘাতক তাকে নির্মমভাবে হত্যা করছে আর তার জন্মদাতা পিতা দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখছেন। কী তার অপরাধ? কেন তাকে হত্যা করা হচ্ছে? এইতো মাত্র কদিন আগে এক পশু তাকে অপহরণ করে দিনের পর দিন বলাৎকার করেছে। সেই পশুর হাত থেকে বাঁচতে তাকে দূরের আত্নীয় বাড়িতে এসে আশ্রয় নিতে হয়েছে। এর মাঝে তাকে মেরে ফেলার মতো অপরাধ সে কোথায় করল? অবশ্য মৃত্যুর পূর্ব মুহুর্তে  একটি অপরাধের কথা তার মনে পড়ে থাকবে হয়তো। সে অপরাধটি হলো তার জন্মপাপ। মেয়ে হয়ে জন্ম নেয়া্র পাপ। সে মেয়েটি চর্যাপদ পড়েনি পড়লে জানত হাজার বছর আগেই তার কথা বলে গেছেন এক চর্যাকবি ‘আপনা মাঁসে হরিণা বৈরি’ এই রূপকের মাধ্যমে।হরিণের মাংসের সুখ্যাতি যেমন তার মৃত্যুর কারণ তেমনি নারীর শরীর হলো তার জন্মশত্রু। এই শরীরের কারণেই তাকে মরতে হচ্ছে। ভাবুন সেই বাবার কথা। প্রফেশনাল ছাড়া একটা পাগলা কুকুরকে হত্যা করতেও একজন বিবেকবান সুস্থ মানুষের হাত কাঁপে এমনকি কেউ হত্যা করলেও দাঁড়িয়ে দেখার মতো মানসিকতা থাকেনা কিন্তু আমাদের কথিত এই পিতা তাই করছেন। তিনি নিজ কন্যাকে ঘাতকের কাছে তুলে দিয়েছেন। কন্যার সেই হত্যাকান্ড দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখছেন। এর কারণ হত্যাকান্ডের দর্শক সেই লোকটি তখন আর বাবা নন। বাবার খোলসের ভেতর জেগে ওঠা চিরকালের একজন পুরুষ যার কাছে নারী কোনো স্বত্তা নয় একটি জীবন্ত বস্তুমাত্র।
বিউটির এই হত্যাকান্ডের মূল মোটিভ হলো সামাজিক চাপ থেকে মুক্তি এবং তা থেকে ছায়েদ আলী ও তার পরিবারের সম্মান রক্ষা সুতরাং একে বলা যায় এক ধরণের অনার কিলিং। একটি দিনমজুর শ্রেণীভুক্ত মানুষের মাঝেও যদি এ রকম সামাজিক মান-সম্মানের প্রশ্ন তাকে হত্যার মতো অপরাধে উদবুদ্ধ করে তাহলে আমাদের তথাকথিত অভিজাত সমাজের অবস্থাটি কেমন? কারণ পারিবারিক মান-সম্মানের প্রশ্নতো সে সমাজে আরও উৎকট। হা সেইসব সমাজেও অনার কিলিং চরিত্রের হত্যাকান্ড সংগঠিত হয়ে থাকে। যদিও পাকিস্তানের মতো তা স্বীকৃত নয় অনার কিলিং শব্দটাও এখানে প্রচলিত নয় কিন্তু প্রথাটি ট্যাগবিহীন ভাবে দীর্ঘকাল ধরে চলে আসছে। একটি মেয়ে পরিবারের ঐতিহ্য ভঙ্গ করে নীচু সমাজ বা ভিন্নধর্মের একটি ছেলের সাথে জড়িয়ে পড়েছে সেই মেয়েটিকে কিছুতেই ফেরানো যাচ্ছেনা তখন পরিবারের সম্মান বা ঐতিহ্য রক্ষার স্বার্থে তাকে হত্যা করে রোগভোগে মৃত্যু বা আত্নহত্যা বলে চালিয়ে দেয়া হয়। যেহেতু পরিবারের লোকজনই হত্যার সাথে জড়িত থাকে সুতরাং এসব হত্যাকান্ড সাধারণ মৃত্যু বা আত্নহত্যার মামলা হিসেবেই চিরকালের জন্য চাপা পড়ে যায়। পর্দার অন্তরালের এই শিরোনামবিহীন হত্যাকান্ড মুসলমানদের মতো হিন্দুদের মাঝেও আছে। উভয় সমাজেরই দৃষ্টিভঙ্গি সামাজিক বৈষম্য বর্ণ গোত্র সামাজিক ষ্ট্যাটাস ও নারীর প্রতি দৃষ্টিভঙ্গির প্রশ্নে সামঞ্জস্য রয়েছে। হিন্দুদের একটি বাড়তি সুবিধা হলো প্রেমেপড়া বা প্রেমেধরা অবাধ্য মেয়েটিকে হত্যা করে কোনো একটি রোগে মৃত্যু হয়েছে এ রকম ঘন্টাখানেকের ঘোষণায় ‘রামনাম সত্য হে’ বলে লাশটিকে খাটিয়ায় তুলে শ্মশানে নিয়ে গিয়ে দাহ করে দিলেই বায়োলজিকেল সকল ইভিডেন্স নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়। বাংলাদেশে যতগুলি নারী-আত্নহত্যার ঘটনা ঘটে তার বড় একটি অংশই পর্দার অন্তরালের অনার কিলিং। এমনকি যেগুলি প্রমানিত আত্নহত্যা তার পেছনেও থাকে প্ররোচনা। ভিকটিমের চারপাশে এমন ভীতিকর পরিবেশের সৃষ্টি করা হয় যখন মৃত্যুর মাঝেই সে একমাত্র মুক্তির পথ খুঁজে পায়। এ ক্ষেত্রে পরিবার সরাসরি হত্যাকান্ডে অংশগ্রহণ করেনা কিন্তু ভিক্টিমকে মরতে বাধ্য করা হয়। এটাও হত্যা। বিউটির মতো কত হাজারো হতভাগিনী যে এই পুরুষতান্ত্রিক সমাজের নিষ্টুরতার বলি হয়ে পৃথিবী থেকে অকালে ঝরে গেছে এবং যাচ্ছে তার খবর আমরা জেনেও না জানার ভান করে যাচ্ছি। কারণ ভেতরে ভেতরে আমরা প্রায় সবাই একাধারে ধর্ষক ও অনার কিলারদের শ্রেণীভুক্ত। বিউটিও অন্যান্যদের মতো নিরব নিঃশব্দেই চলে যেত কিন্তু তার হত্যা দিয়ে অন্যকে ফাঁসানোর চেষ্টা হয়েছে বলে খেঁচো খুঁড়তে গিয়ে সাপ বেরিয়ে পড়েছে। যদি গলা টিপে হত্যা করে মাটিতে পুঁতে ফেলা হতো কেউ তার খবরও জানতনা।
বিউটি হত্যাকান্ডের আসামী হিসেবে বাবা ছায়েদ আলীর হয়তো সর্বোচ্চ শাস্থিই হবে। হওয়াই স্বাভাবিক। কিন্তু এই হত্যাকান্ডের জন্য কি শুধু ছায়েদ আলীই দায়ী ? আমাদের পুরুষতান্ত্রিক সমাজ, এর মূল্যবোধ, নারীর প্রতি তার বর্বর দৃষ্টিভঙ্গি কি সমান দায়ী নয়?  ছায়েদ আলীতো একজন স্রেফ রোবটিক চরিত্রমাত্র  তাকে নিয়ন্ত্রণ করেছে এই সমাজ। কিন্তু সমাজেরতো বিচার হবেনা। যতদিন না এই সমাজের পুরুষদের বোধোদয় হবে ততদিন নারীদের এই অভিশাপ বয়ে বেড়াতেই হবে।

ইসলাম এ নারীর সম্পদ এবং পানি পড়া।

লিখেছেন: সাহেদ
বর্তমানে আমরা জানি নারী পুরুষ সমান অধিকার। আমরা জানি ইসলাম ধর্মের নিয়ম অনুযায়ী সম্পত্তি বন্টনের ক্ষেত্রে নারী পাবে পুরুষের অর্ধেক সম্পত্তি। ইসলাম বলে তারা  করে ন্যায়বিচার।
এখানে এই নিয়মটা কিভাবে ন্যায়বিচার এর মধ্যে পড়ে। এটাকি যথেষ্ট প্রমান নয় যে ইসলাম ধর্ম কিছু সুবিধাবাদী লোক তাদের নিজের সুবিধার জন্য তৈরি করেছে।
কিছু ধর্ম ব্যবসায়ী শুধু পানি বিক্রির ব্যবসা করে যাচ্ছে কিছু মানুষকে বোকা বানিয়ে। হিজুররা বলে তারা পানিতে ফুঁ দিলেই সেই পানি হয়ে যায় সর্ব রোগের মহৌষধ।
আর গ্রামের সহজ সরল মানুষগুলি এই ধোকাবাজদের কথা বিশ্বাস করে শুধু ধোঁকাই খেয়ে যাচ্ছে। আর কতকাল চলবে এই ধোঁকাবাজি।

Sunday, 29 April 2018

পিতামাতা যা-ই করে তাতেই সন্তানের মঙ্গল নিহিত,

লিখেছেনঃ সাহেদুল সাহেদ 
আমার বয়েস তখন ১২-১৩, এইটে পড়ি। সেদিন ছিল শুক্রবার। বৃষ্টি হচ্ছে অঝোরে, ঝড় বইছে দমকা এলোমেলো। শুক্রবার তাই স্কুল বন্ধ আমার আমার পিঠাপিঠি ছোটভাই শুভর। আমাদের মা প্রাইমারি স্কুল মাস্টার। তারও ছুটির দিন। রান্নাঘরে রান্নার জোগাড় চলছে। বাসায় কোনো গৃহকর্মী নেই। রান্নার জোগাড়পত্র করছি মা আর আমি। আমি সন্দ্বীপে বড় হয়েছি। তখন সন্দ্বীপে দরিদ্র মানুষেরা সামান্য একটু ভাতের বিনিময়ে অবস্থাপন্ন গৃহস্থদের সব গৃহকর্ম করে দিতো। কিন্তু আমার মা সমস্ত কাজ আমার হাতেই করাতো, কোনো গৃহকর্মী নিতে চাইতো না। আমি কাজ করতে করতে আধমরা হয়ে যদি কাকুতিমিনতি করতাম কাউকে কাজের সাহায্যের জন্য ডাকতে তখন তার এককথার জবাবফকিরের বাচ্চারা ভাত বেশি খায় বড়লোকেদের বাড়িতে কাজ করতে এলে। আর তোকেই বা আমি বসিয়ে বসিয়ে খাওয়াবো কেন অন্য কাউকে ভাত খাইয়ে কাজ করিয়ে? তোকে বিনা কাজে বসিয়ে খাইয়ে তোর শরীরে চর্বি করে দিয়ে আমার লাভ কী?
কচুমুখী আর কচুর লতি রান্না হবে সেদিন; কী যেন মাছ দিয়ে। মাছ কোটার পরে আমি কচুমুখী আর লতি কুটছি। কাটাকোটা শেষ হলে খোসাগুলি ফেলতে আমি রান্নাঘরের দরজার বাইরে বের হলাম। রান্নাঘরটি দক্ষিণদুয়ারী। রান্নাঘরের বেড়ার বাইরে চালের নিচেই চিকন বারান্দার মতো টানা জায়গা। সে পথ দিয়ে হেঁটে আমরা রান্নাঘরের পশ্চিমদিকে অনেকখানি লাগোয়া টয়লেটে যাই। টয়লেটের সামান্য পশ্চিমেই একটা পুকুর। পুকুরটা অনেকটা পরিত্যক্ত। আমি প্রতিদিনের ঘর রান্নাঘরের উঠোন ঝাঁট দেওয়া ময়লা এবং মাছ-তরকারি কোটা ময়লা সেই পুকুরের পাড়ের ভেতরের দিকে ফেলি। সেদিন ময়লা ফেলতে পুকুরপাড়ের দিকে যাওয়ার চেষ্টা করে দেখি, বৃষ্টি বাদলে অবস্থা ভয়াবহ। রান্নাঘরের পশ্চিমের কোণ ঘেঁষে একটা পেয়ারাগাছ। আমি পেয়ারাগাছের গোড়ার দিকে লক্ষ্য করে তরকারির খোসাগুলি ছুঁড়ে ফেলি। আমার মা তা দেখতে পেয়ে আমাকে আকাশ-পাতাল গালাগাল অভিশাপ দিতে শুরু করে। আমাকে এলোপাথারি লাথি মারতে থাকে। আমি বলার চেষ্টা করি, বৃষ্টি ঝড়ের জন্য আমি পুকুরপাড়ে গিয়ে ময়লাগুলি ফেলতে পারিনি। বৃষ্টি থেমে গেলে ঝাঁট দিয়ে দেবো। তাতে সে আমার আরো বেশি প্রবলবেগে মার, অভিশাপ গালি দিতে থাকে।
এরপর আরো বেশি ক্রুদ্ধমূর্তি ধারণ করে বলে, এবার দেখবি আসল মজা। তোর নাগরকে ডেকে এনে এখন তোকে উচিত শিক্ষা দেওয়াবো। আমার নাগর মানে আমার পিতা। পিতা বসে ছিল মেইন ঘরের বারান্দায়। সে পোস্টমাস্টারের চাকরি করতো। তারও আজ ছুটির দিন। আমাদের ঘরে টিনের চাল। টিনের চালে প্রচণ্ড বৃষ্টির আওয়াজ ঝড়ের শোঁ শোঁ শব্দের কারণে পিতা রান্নাঘরের আরো প্রচণ্ড মার গালি অভিশাপের আওয়াজ শুনতে পাচ্ছিল না। মুহূর্তেই মা পিতাকে সামনের ঘরের বারান্দা থেকে হাত ধরে টেনে এনে আমার সামনে হাজির করে। পেয়ারাগাছের নিচে তরকারির খোসাগুলির দিকে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে বলে, এই মাগী ওই যে ওইখানে তরকারির খোসা ফেলেছে। পিটিয়ে এর যোনি থেতলিয়ে দাও। পিতা বলে, তথাস্তু। মায়ের হুকুম তামিল করতে সাথেসাথে হুংকার দিয়ে পিতা আমার গায়ে উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। আমাকে শূন্যে তুলে আছাড় মারে রান্নাঘরের মেঝেতে কয়েকবার। আমাকে মেঝেতে শুইয়ে আমার শরীরের উপর পাড়াতে থাকে প্রবলভাবে। চোখ দিয়ে তার দাউদাউ আগুন বের হতে থাকে জিঘাংসা আর ক্রোধের। মুখ দিয়ে উগড়াতে থাকে জ্বলন্ত লাভা; ঘৃণ্য সব গালির লাভা। -বর্গীয় গালিসহ অন্যান্য বর্গীয় গালির অন্তহীন স্রোত অবিরাম বের হতেই থাকে। এবার সে একটা দা হাতে তুলে নেয়। যে দা দিয়ে আমি তরকারি কুটেছিলাম সেই দা-টা। দা আমার গলায় বসিয়ে দেয়। জবাই করে দিতে চায় আমাকে। তারপর তার একটা পা দিয়ে আমার এক পা পাড়িয়ে চেপে ধরে রেখে অন্য পা শূন্যের দিকে টেনে টেনে আমাকে ছিঁড়ে ফেলতে চায় এবং দা-টা আমার যৌনাঙ্গের মধ্যে ধরে বলতে থাকে, এই দা এখনই তোর যোনি দিয়ে ঢুকায়ে দেবো। আমি চিৎকার করে কাঁদি। কাতর হয়ে বলি, আব্বা, আব্বার গো, আর করবো না জীবনে। মাফ করে দেন। এবার সে আরো ভয়ানকমূর্তি ধারণ করে বলে, পেয়ারাগাছের নিচ থেকে সমস্ত তরকারির খোসা একটা একটা করে তোর মুখ দিয়ে কামড়ে কামড়ে পুকুরপাড়ে নিয়ে ফেলবি এখনই।
আমাদের অনেক হাঁসমুরগি ছিল। বৃষ্টি থেকে নিজেদের রক্ষা করতে সবাই এসে আশ্রয় নিয়েছে আজ পেয়ারাগাছের নিচে। ডালপালা পাতার কারণে গাছের নিচে বৃষ্টির পানি পড়ে কম। ওখানে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে ওরা দিনভর বিষ্ঠাত্যাগ করেছে। গাছের তলটা তাই আজ জলকাদা আর হাঁসমুরগির বিষ্ঠায় সয়লাব। তার এই হুকুম শুনে আমি অসহায় করুণ মিনতির চোখে মায়ের দিকে তাকাই। আমি আশা করি, মা আমাকে এই শাস্তি থেকে রক্ষা করবে। তাকে বলি, মা, আর করবো না। মায়ের মুখে সন্তুষ্টি আর তৃপ্তির হাসি। আমাকে বলে, এখনই যা, মাগী, খোসাগুলি একে একে মুখ দিয়ে কামড়ে পুকুরপাড়ে ফেল, নইলে অবস্থা আরো খারাপ করিয়ে দেবো। আমার ছোটভাই শুভ চলমান ঘটনায় খুবই মজা পাচ্ছে। ফিকফিকিয়ে হেসে বলছে, ফেল মাগী, ফেল। এবার পিতা সর্বশক্তি দিয়ে আমার নিতম্বে লাথি মারে। আমি নিজেকে পেয়ারাগাছের নিচে উপুড় আবিষ্কার করি। আমার মুখ আর চুল হাঁসমুরগির বিষ্ঠা আর জলকাদার মধ্যে ডুবে আছে, আমার গায়ে এসে পড়ছে ঝড়বৃষ্টির ছাঁট। হাঁসমুরগিরা আমার দিকে কৌতুকের দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। পিতা হাতে দা উঁচিয়ে দাঁড়িয়ে আছে রান্নাঘরের দুয়ারে, তার পাশে মা আর ছোটভাই শুভ। তিনজনই সুর মিলিয়ে বলছে, ফেল, মাগী ফেল, কামড়ে কামড়ে ফেল। আমি হাঁসমুরগির বিষ্ঠা আর জলকাদার ভেতর থেকে কামড়ে কামড়ে একটা একটা করে লতি আর কচুমুখীর খোসা পুকুরপাড়ে নিয়ে ফেলতে থাকি হামাগুড়ি দিয়ে দিয়ে। ঝড়ের কারণে খোসাগুলি একটু চারদিকে ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়েছিল ফেলার সময়। আমি চোখ দিয়ে খুঁজতে থাকি এদিক-ওদিক আঁতিপাতি, আর কোথাও কোনো খোসারর চিহ্ন আছে কি না। বৃষ্টির ছাঁট এসে লাগে আমার চোখে। নিজের চোখের বৃষ্টি তো আছেই। আমার দৃষ্টি জলে ডোবা ঝাপসা। আমি চোখে ভালো দেখতে পাই না। চোখমুখে বিষ্ঠায় কাদায় মাখামাখি হয়ে আমি মায়ের দিকে তাকাই কাতর চোখে। সে আমায় দেখিয়ে দেয়, ওই যে ওই দূরে আরো কয়েকটা দেখা যাচ্ছে খোসা! আমি ছুটে যাই, হামাগুড়ি দিয়ে দিয়ে একে একে সবকটি খোসা কামড়ে কামড়ে নিজের মুখে তুলে নিয়ে ফেলে দিয়ে আসি পুকুরপাড়ে। আমার মুখের ভেতরে দাঁত জিহ্বা সব বিষ্ঠাময়। আমার চুল মুখমণ্ডল হাত পা পুরো শরীর বিষ্ঠায় মাখামাখি।
আপনারা ভাবছেন, বিষ্ঠায় কামড় দিয়ে দিয়ে আমি খোসা তুললাম কীভাবে? আমার কি বিবমিষা লাগেনি? না। জীবন বাঁচাতে তখন আমি আরো ঘৃণ্য কিছু করতেও পিছ পা হতাম না। জীবন এমনই জিনিস! আমি এই হুকুম পালন না করলেই তো সাথেসাথে কোপ বসিয়ে দেবে। আমার তখন মান-অপমান বোধ নেই। আমার জিহ্বা বিষ্ঠার স্বাদ উপভোগ করতে ভুলে গেছে। ঘ্রাণেন্দীয় ভুলে গেছে বিষ্ঠার গন্ধ উপভোগ করতে। শরীর ভুলে গেছে ব্যথা পেতে। আমি রান্নাঘরের সামনে এসে দাঁড়াই। আমার পিতামাতা ভাইয়ের মুখ তখন পরিতৃপ্ত খুসিখুসি। শুভ, আমার ভাই, মাকে বলে, মা, আমি এখন থেকে ওকে হাঁওরা ডাকবো, কেমন? মা তার ছেলেকে বুকে টেনে নিয়ে মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে দিতে আদুরে করে বলে, তুমি আজকে থেকে একে অবশ্যই হাঁওরা ডাকবে, বাছা। হাঁওরা হচ্ছে কোদালের মতো একটা জিনিস। আকারে কোদালের চেয়ে কিছুটা বড়। মানুষে মাটি কাটা ময়লা আবর্জনা ফেলার কাজে ব্যবহার করে। আমি আজ পিতামাতার সম্মিলিত হুকুমে নিজের মুখে কামড়ে বিষ্ঠা ফেললাম। আমি হাঁওরাই তো! সেদিন থেকে আমার বিয়ের আগ পর্যন্ত আমার ভাই আমাকে হাঁওরা ডেকেছে অন্যান্য খারাপ নামের সাথে। নানান খারাপ নাম উপাধি খেতাব ইত্যাদি তো আমি পেতামই প্রতিদিন আমার পিতামাতা ভাইদের কাছ থেকে।


ধর্ম আজ অসহায়।

লিখেছেনঃ আসিফ মহিউদ্দিন  দাসদার মাথায় ছিলো না যে তিনি কোনদিন মারা যাবেন। গতকাল তিনি শেষ পর্যন্ত চলেই গেলেন। গতবছর একদিন চারটে বেগুন ভা...